সিঁদুরখেলায় মাততে চান অপরাজিতা
পূজার আনন্দ তো আছেই, তবে পূজার আনন্দের সেরা দিকটাই নাকি হলো বিসর্জনে নাচ! তাসা আর কুড়কুড়ির তালে তালে দুই হাত ওপরে তুলে ইচ্ছেমতন কোমর দুলিয়ে নাচতে না পারলে কি আর দুর্গাপূজার আসল মজা পাওয়া যায়! পূজায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় শামিল হয়ে শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে নাচতে নাচতে যাওয়াতেই নাকি আসল আনন্দ। অন্তত তেমনটাই মনে করেন টলিউড অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তাঁর কাছে ভাসানের নাচ আর বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলা-এই দুটোই হলো পূজার অন্যতম আকর্ষণ।
এবারের মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা উদ্বোধন, রিয়েলিটি শোতে বিচারকের কাজ করা, এসব ব্যাপার স্যাপার আজ অষ্টমীর সকাল থেকেই বন্ধ। ফলে অষ্টমী থেকেই পূজার খুশি বাঁধ ভাঙতে চলেছে অপরাজিতা আঢ্যর। জানিয়েছেন, এখন থেকে পাড়ার মণ্ডপে জাঁকিয়ে চলবে শুধু আড্ডা। সেই সঙ্গে পূজার ভোগ খাওয়া তো রয়েছেই। আর সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে একটু আধটু ঘোরাঘুরি কিন্তু মিস করতে চান না তিনি। এক মাস আগে থাকতেই পূজার প্রস্তুতি আরম্ভ করে দিয়েছিলেন টলিউডের এই অভিনেত্রী। এক মাস ধরে দিন গোনার পর অবশেষে পূজা এসেছে। ফলে পূজার আনন্দ চেটেপুটে উপভোগ করতে কার্যত একপায়ে তৈরি এই টলি অভিনেত্রী। অবশ্য, তাঁর কাছে দুর্গাপূজা মানেই কলকাতা। পূজাতে কখনই কলকাতা ছেড়ে বাইরে কোথাও যেতে রাজি নন তিনি। সুতরাং কলকাতার দুর্গাপূজার আমেজকে উপভোগ করতে অষ্টমী থেকেই পুরোদস্তুর তৈরি হয়ে পড়েছেন তিনি।
অষ্টমীর সন্ধিপূজা শেষ হতেই কোথায় যেন একটা বিষাদের ছায়া মন খারাপ করে দিতে আরম্ভ করে দেয়। কারণ নবমী নিশি পার হলেই দুর্গা মায়ের বিদায় বেলা। তবে বিজয়াতে মন খারাপ হলেও বিজয়ার আনন্দে মেতে উঠতে এ বছরও বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করতে রাজি নন অপরাজিতা। জানিয়েছেন, বিসর্জনে শামিল হয়ে ইচ্ছেমতন নাচ আর সিঁদুর খেলে ভূত হয়ে যাওয়ার মতো আনন্দকে মিস করতে চাই না। আর সেই সঙ্গে বিজয়ায় আমার শ্বশুরবাড়ির খাওয়াদাওয়ার জাঁকজমক তো থাকছেই।’
ঘুগনি, নিমকি, হরেক রকমের স্পেশাল মিষ্টি পূজার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। সুতরাং অপরাজিতার কাছে উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে পূজার হৈ হুল্লোড়। তবে পূজা বলুন আর বিজয়া বলুন, উৎসবের এই মৌসুমে রান্নাঘরে ঢুকতে কিন্তু একদমই রানি নন অপরাজিতা। জানালেন, ‘রান্নাঘরে বন্দি হয়ে থাকলে আর মজা করব কখন? পূজার কটা দিন ইচ্ছেমতন ঘুরব, খাব-দাব আর আড্ডা দেব তবেই না পূজা।’

মনোজ বসু, কলকাতা