বিশ্বের ধনী অভিনেতাদের শীর্ষ দশে সালমান-অমিতাভ
বিশ্বখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর সেরা ১০ ধনী অভিনেতার তালিকায় স্থান পেলেন তিন বলিউডি অভিনেতা। অথচ মজার বিষয় হলো, প্রথম ১০-এ ঠাঁই পাননি হলিউডের জনি ডেপ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, ব্র্যাড পিটরা।
তাঁদের বদলে প্রথম ১০-এ ঠাঁই করে নিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও অক্ষয় কুমার। ফোর্বসের ধনী অভিনেতাদের তালিকায় ১৮ নম্বরে রয়েছেন শাহরুখ খান। ফোর্বসের এই তালিকা হলিউড-বলিউড নিয়ে অনেক ধারণাকেই ভুল প্রমাণিত করেছে।
বলিউডের বহু নামজাদা অভিনেতাকে পেছনে ফেলে এ তালিকায় প্রথমেই জায়গা করে নিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। ৭২ বছরের এই চিরযুবকের বাজারদর যে কমবয়সী তারকার থেকে ১০ গুণ, তা ফের প্রমাণ করে দিলেন বিগ বি। এর আগেও ফোর্বস তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি।
তবে এবার তাঁর সঙ্গে যুগ্মভাবে রয়েছেন বলিউডের দাবাং সালমান খান। গত আর্থিক বছরে যুগ্মভাবে তিন কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার রোজগার করে ফোর্বসের ধনী অভিনেতাদের তালিকায় সাত নম্বর স্থানটি দখলে নিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন ও সালমান খান।
আট নম্বরে রয়েছেন খিলাড়ি অক্ষয় কুমার। অক্ষয় কুমারের উপার্জন তিন কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এ তালিকায় বেশ পিছিয়ে রয়েছেন শাহরুখ খান। নামতে নামতে ১৮ নম্বরে এসে থেমেছেন তিনি। তাঁর রোজগার ২ দশমিক ৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ তালিকার ৩০ নম্বরে অবশ্য রয়েছেন বলিউডের আরেক অভিনেতা রণবীর কাপুর।
এ বছরই প্রথম পৃথিবীর সব অভিনেতার আয় নিয়ে তালিকা প্রকাশ করল ফোর্বস। এর আগে কখনই হলিউড-বলিউড একসঙ্গে সমীক্ষা হয়নি। এই প্রথম ফোর্বস হলিউড-বলিউড-চীন এবং হংকংয়ের অভিনেতাদের আয়ের প্রতিবেদন নতুন তালিকায় যোগ করেছে।
অমিতাভ বচ্চনকে বিশ্বের একমাত্র ‘ফিল্মস্টার’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে অসম্ভব জনপ্রিয় তিনি। বছরে ১৮টির বেশি এনডোর্সমেন্ট (চুক্তি) করে থাকেন তিনি। এসব এনডোর্সমেন্টের কাজে তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্ক ঘোরাফেরা করে ১ থেকে ১০ কোটির মধ্যে। শুধু বিজ্ঞাপন করেই তাঁর বছরে আয় হয় ১০০ কোটির কাছাকাছি। এর পর থাকে চলচ্চিত্রের কাজ।
অন্যদিকে, সালমান খানের বিজ্ঞাপন বাজার অত ভালো না হলেও মেরেকেটে বছরে চারটি বিজ্ঞাপন তাঁর পকেটে আসেই। মূলত তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রগুলো।
প্রথমত, সালমানের ছবি পৃথিবীজুড়ে মুক্তি পায়। ভারতে যেমন তাঁর প্রচুর ভক্ত, তেমনি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ আরব দেশগুলোতেও সালমানের তুমুল জনপ্রিয়তা। তার ওপর সালমানের সাম্প্রতিক সময়ের ছবিগুলো তিনি অথবা তাঁর ভাইরাই বকলমে প্রযোজনা করেন। ফলে ছবির লাভের বেশির ভাগই ঘরে আসে। তা ছাড়া সালমানের জনপ্রিয় শো ‘বিগ বস’-এর রোজগার তো রয়েছেই। শোনা যায়, ‘বিগ বস’-এর পর্ব প্রতি দুই কোটি টাকা করে পারিশ্রমিক নিতেন সল্লু।
অক্ষয় কুমার মাঝারি মাপের বিজ্ঞাপন যেমন করেন, তেমনি তাঁর ছবির বাজারও বেশ ভালো। অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার বেশ কিছু ছবি আছে, যেখানে ‘খিলাড়ি’ কুমারই সেরা। ভারতের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও অক্ষয় কুমারের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
তবে এবারে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছেন কিং খান শাহরুখ খান। বিজ্ঞাপন যেমন কম করেছেন, তেমনি ছবিও করেছেন কম। ফলে গত বছরটা খুব ভালো কাটেনি শাহরুখের। তবে সামনের বছরে ‘মান্নাত’-এর মালিক ফের উঠে আসেন কি না, সেটার অপেক্ষাতেই আপাতত চেয়ে থাকা।

মনোজ বসু