বলিউডি ছবির সেরা বন্ধুরা
‘ইয়ে দোস্তি হম নাহি তোড়েঙ্গে’- রমেশ সিপ্পির ক্লাসিক ছবি ‘শোলে’র এই গানটিকে নিঃসন্দেহে বলিউডি ছবির বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন বলা যেতে পারে। ‘শোলে’র দুর্দান্ত সাফল্যের পেছনে জয়-বীরু তথা ধর্মেন্দ্র-অমিতাভের অনস্ক্রিন বন্ধুতার যে বিশাল ভূমিকা ছিল, তা তো আর বলতে হয় না! পরবর্তীকালেও বলিউডি ছবিতে বন্ধুত্ব একটি বিশাল প্লট হিসেবে কাজ করেছে। সেই সঙ্গে সময়ে সময়ে সৃষ্টি হয়েছে দারুণ সব বন্ধুত্বের গল্প। ফিল্মফেয়ার জড়ো করেছে অনস্ক্রিন বন্ধুদের সেরা কিছু অনস্ক্রিন বন্ধুদের।
১. জয়-বীরু ( শোলে, ১৯৭৫)
এই ছবিতে ধর্মেন্দ্র (জয়) এবং অমিতাভ বচ্চনের (বীরু) বন্ধুত্ব দর্শক কখনোই ভুলতে পারেনি। এই কাল্ট ক্লাসিক ছবিতে হাসিঠাট্টা, জীবনবোধ, একতা কিংবা ত্যাগ- সব কিছুরই নিদর্শন ছিল জয়-বীরুর বন্ধুত্বে। বলিউডি ছবির সেরা বন্ধুত্বের চরিত্র হিসেবে জয়-বীরু জুড়িই তালিকার এক নম্বরে থাকাই স্বাভাবিক।
২. রাহুল-অঞ্জলি ( কুছ কুছ হোতা হ্যায়, ১৯৯৮)
ভালোবাসা হলো বন্ধুত্ব, এমনই ভাষ্য এই ছবির। কাজল-শাহরুখ জুটির অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি এমনিতেই দুর্দান্ত, এই ছবি সেটিকে নিয়ে গেছে অন্যরকম পর্যায়ে। কলেজজীবনের সেরা বন্ধু রাহুল এবং অঞ্জলির গল্প তো অনেকেরই নিজেরও গল্প, নাকি!
৩. সমীর-কুনাল (দোস্তানা, ২০০৮)
আবাসন সমস্যা এড়াতে ‘গে’ জুটি সাজা সমীর (অভিষেক বচ্চন) ও কুনালের (জন আব্রাহাম) গল্প দারুণ সাড়া ফেলেছিল বলিউডে। দুই পুরুষ তারকার ‘কেমিস্ট্রি’তে ভর করে বিগ বাজেট ছবির আইডিয়া বলিউডে নতুন এক অধ্যায়ই তৈরি করে দিয়েছিল বলা যায়! সমীর-কুনালের বন্ধুত্বে দর্শকও ভালোই আমোদ পেয়েছেন।
৪. কবির-ইমরান-অর্জুন (জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা, ২০১১)
অর্জুন (হৃতিক রোশন), ইমরান (ফারহান আখতার) ও কবিরের (অভয় দেওল) বন্ধুত্ব একেবারেই টিপিক্যাল নয়। জীবনকে জীবনের মতো উপভোগ করতে চাওয়ার দীক্ষা দেয় তাদের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের সঙ্গে সঙ্গে জীবনদর্শনের নতুন এক রূপ দেখিয়েছে তাঁদের বন্ধুত্ব।
৫. আকাশ-সমীর-সিদ্ধার্থ (দিল চাহতা হ্যায়, ২০০১)
এই ছবি আসলে পুরোপুরি বন্ধুত্ব বিষয়টিকে নির্ভর করেই তৈরি হয়েছে। অভিষিক্ত পরিচালক ফারহান আখতার হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি, বলিউডি ছবিতে বন্ধুত্বের আইডিয়ায় রীতিমতো একটি ‘আদর্শ’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ‘দিল চাহতা হ্যায়’। যারা দেখেছেন, তারা এ কথায় আপত্তি করবেন না নিশ্চয়ই!
৬. জো-আদিত্য-কেদার-রব (রক অন, ২০০৮)
২০০৮ সালের এই মিউজিক্যাল ড্রামা কেবল দারুণ সব গানেই নয়, বন্ধুত্বের দারুণ একটি ছবি হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এই ছবিতে চার বন্ধুর চরিত্রে ছিলেন অর্জুন রামপাল, ফারহান আখতার, পুরব কোহলি ও লিউক কেনি।
৭. রাহুল-রিয়ানা (এক ম্যায় অউর এক তু, ২০১১)
একটা মেয়ে আর একটা ছেলের মধ্যে কি কেবল বন্ধুত্বই হতে পারে? বলিউডের এই ছবিটি শেষপর্যন্ত দেখানোর ‘সাহস’ করেছিল, সম্পর্কের সমাপ্তি শেষপর্যন্ত প্রেম-পরিণয় না হয়ে বন্ধুত্বেই টিকে থাকতে পারে। ইমরান খান ও কারিনা কাপুর খান তেমনটা দেখাতেও পেরেছিলেন, তবে দর্শকের হয়তো এই ‘বিপ্লব’ তেমন একটা মনে ধরেনি!
৮. ফারহান-রাজু-রাঞ্চো (থ্রি ইডিয়টস, ২০০৯)
থ্রি ইডিয়টস নিয়ে নতুন করে আর কিই বা বলার আছে! বলিউডের এই ছবিটি বন্ধুত্বের সম্পর্কের সঙ্গে সঙ্গে সমসাময়িক বহু বিষয় নিয়েও সূক্ষ্মভাবে বক্তব্য দিতে পেরেছে। বাণিজ্যিক ছবির সব চাহিদা মিটিয়ে ছবিটিকে রীতিমতো শিক্ষণীয় করে তোলাতেও এই তিনজনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক দারুণ কাজ করেছে।

সামি আল মেহেদী