কোনো দর্শক বোকা নন : চয়নিকা চৌধুরী
এনটিভিতে আজ শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রচার হবে ঈদের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘ফিরে আসার গল্প’। ফারিয়া হোসেনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। টেলিফিল্মটিতে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি, আজাদ আবুল কালাম, বন্যা মির্জা, শহীদুজ্জামান সেলিম, প্রভা, ইমন, এফ এস নাইম, সোনিয়া হোসেন প্রমুখ। টেলিফিল্মটির কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন চয়নিকা চৌধুরী।
এনটিভি অনলাইন : ‘ফিরে আসার গল্প’ টেলিফিল্মে কী ধরনের গল্প দেখাতে চেয়েছেন?
চয়নিকা চৌধুরী : আমাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা। সম্পর্কগুলোও এক রকম নয়। পৃথিবীতে যখন আমরা বেঁচে থাকি আমাদের বিচ্ছেদ হয়, মান-অভিমানও হয়, ভালোবাসার মানুষকে অনেক সময় আমরা সম্মানও করি না।। মৃত্যু আমাদের নিয়তি। আমরা কেউ এটা এড়িয়ে যেতে পারব না। ‘ফিরে আসার গল্প’ টেলিফিল্মে দেখানো হয়েছে দুজন মৃত্যুপথযাত্রী ভালোবাসা পেতে চায়। বেঁচে থাকতে চায়।
এনটিভি অনলাইন : অনেক তারকাবহুল টেলিফিল্ম এটি। এত শিল্পী নিয়ে কাজ করেছেন, শুটিং করতে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি?
চয়নিকা চৌধুরী : আমার মা ও গুরুজনরা সব সময় একটা কথা বলতেন তা হলো ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’। এটা আমিও বিশ্বাস করি। যাঁরা আমার সিনিয়র শিল্পী আছেন, তাঁদের কাছ থেকে আমি প্রতিনিয়ত শিখি। এই টেলিফিল্মে আমি সিনিয়র তারকা শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছি। সিনিয়রদের নিয়ে কাজ করার আনন্দ সব সময় অন্য রকম। কারণ তাঁরা রিহার্সেল করে, সময়মতো সেটে আসে। নাটক স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলাপ করে। তাঁদের ভদ্রতা-জ্ঞান অনেক। সম্মান রেখে সবার সঙ্গে কথা বলে। তার মানে এই নয় যে নতুন শিল্পীরা কাউকে সম্মান করে না। আসলে সিনিয়রদের সঙ্গে কাজের আরাম অনেক। তাঁদের একবার ফোনে না পাওয়া গেলে তাঁরা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে আবার ফোন করেন। বুঝতেই পারছেন, এই টেলিফিল্মের শুটিং অনেক আরাম নিয়ে করেছি। সবার বাসায় চিত্রনাট্য পাঠানোর পর কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি।
এনটিভি অনলাইন : ঈদের নাটক বানাতে বাড়তি কোনো চাপ অনুভব হয় কি?
চয়নিকা চৌধুরী : যেকোনো নাটক আমি সততা, ভালোবাসা ও যত্ন নিয়ে করি। সেটা ঈদের নাটক হোক কিংবা সাধারণ কোনো দিনের নাটক। আমার নিজের সব নাটক আমার কাছে স্পেশাল। বিশেষ ও সাধারণ দিনের নাটকের প্রস্তুতি আমার সব সময় একই রকম।
এনটিভি অনলাইন : নাটক নির্মাণে আপনি কোন বিষয়টাতে বেশি জোর দেন?
চয়নিকা চৌধুরী : আমার কাছে মনে হয়, নাটকের গল্প ঠিক থাকলে সেটা বানিয়ে মজা পাওয়া যায়। ভালো গল্প, অভিনয়শিল্পীদের সুঅভিনয় ও নির্মাণশৈলী দারুণ হলেই তবে দর্শক নাটক দেখেন। কোনো দর্শক বোকা নন। তাঁদের হাতে রিমোট আছে। পছন্দ না হলে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেল পরিবর্তন করেন। তাই দর্শককে ভালো গল্পের নাটক উপহার দিতে হবে। একা একা কখনো ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। সবার প্রচেষ্টায় একটা ভালো কাজ হয়।
এনটিভি অনলাইন : ঈদ উপলক্ষে এবার আপনি কতগুলো নাটক নির্মাণ করেছেন?
চয়নিকা চৌধুরী : আটটি নাটক। এর মধ্যে ‘তালপাতার পাখা’ নামের একটি নাটক নির্মাণ করেছিলাম। নাটকটি লিখেছেন মাসুম শাহরিয়ার। নাটকটি প্রচারের পর অনেক সাড়া পেয়েছিলাম। দর্শকদের পাশাপাশি অনেক সহশিল্পী আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন।
এনটিভি অনলাইন : গত ঈদের থেকে এবার কি আপনি বেশি নাটকে কাজ করেছেন?
চয়নিকা চৌধুরী : গত ঈদে একটা এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলাম। সেখান থেকে মাত্র তিনটা নাটক আমি বানিয়েছিলাম। এবার কোনো এজেন্সির সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ হইনি। সরাসরি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান বিভাগ থেকে কাজ করার অনুমতি পেয়েছি। তাই বেশি কাজ করতে পেয়েছি।

নাইস নূর