শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ডিরেক্টরস গিল্ডের
করোনার প্রকোপে স্তব্ধ জনজীবন। বাংলাদেশেও দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৯ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট ১২ হাজার ৪২৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২২ মার্চ থেকে এমনিতেই সব ধরনের নাটকের শুটিং বন্ধ। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত সব শুটিং স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের পক্ষ থেকে। নিরাপদে বাসায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু ও সাধরণ সম্পাদক এস এ হক অলিক। আজ (৭ মে) এ সিদ্ধান্তের কথা ফেসবুকে জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
এস এ হক অলিক ফেসবুকে লেখেন, ‘সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বতর্মান করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সবর্ত্র সঙ্গনিরোধ কালে আমরা রয়েছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সবাই উদ্বিগ্ন, ব্যথিত কারণ আমরা আমাদের কাজে ফিরতে পারছি না। চরম অর্থনৈতিক কষ্টে দিনযাপন করছি। এই সময়ে আন্তঃসংগঠন চেষ্টা করেছে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে। স্ব স্ব সংগঠনগুলোও তাঁদের সদস্যদের দুঃখে সমব্যাথী হয়ে যৎসামান্য সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দিয়ে সহকর্মীদের পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকব। সরকারি সহায়তার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার জন্য যথাযথ আবেদনসহ সব ধরনের নথি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সহায়তার আবেদনও করা হয়েছে।’
দীর্ঘ পোস্টে অলিক আরো লেখেন, ‘আমরা আন্তঃসংগঠন গুলো প্রায় প্রতিদিন সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করছি এবং একটা গ্রহণযোগ্য উপায় বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কীভাবে শুটিং কার্যক্রম শুরু করা যায়। কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি কোথাও কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না। এই মাসে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হওয়ার কথা এবং হচ্ছেও তাই। এমতাবস্থায় আমরা আপতত শুটিং সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার পক্ষে। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যৌক্তিক উপায় বের করে অচিরেই শুটিংয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ততদিন পর্যন্ত আপনারা বাসায় থাকুন। নিরাপদে থাকুন। এই সমাজ এবং মানুষের প্রতি সর্বোপরি নিজের পরিবারের প্রতি দায় সবচাইতে বেশি। আমরা চাই না খারাপ কোনো কিছুর উদাহরণ হতে। তাই নিজের এবং জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা এমন কিছু করব না যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে । তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত সব প্রকার শুটিং স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

বিনোদন প্রতিবেদক