রাজধানীতে অভিযান: বিপুল বিদেশি সিগারেট জব্দ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি আলাদা আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের তিন লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
আল আমিন শেখ জানান, গত গতকাল বুধবার ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের দুটি প্রিভেন্টিভ টিম সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পিসি কালচার হাউজিংয়ের একটি ভবন ও জহুরি মহল্লার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়।
সোর্সের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গোয়েন্দা দল মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে বেলা ১১টায় টার্গেট লোকেশনে পৌঁছায়। এরপর তারা একযোগে দুটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে। অভিযান চলাকালে গোডাউন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ভবনের দারোয়ানের সহযোগিতায় গোপন গোডাউন চিহ্নিত করা হয়।
গোডাউন মালিককে খুঁজে না পেয়ে ভবন মালিকের সহযোগিতা নেওয়া হয়। কোনভাবে চাবি সংগ্রহ করতে না পেরে ভবন মালিকের সহায়তায় বাইরে থেকে মিস্ত্রি ডেকে গোডাউনের তালা ভেঙে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট বস্তাভরে গুদামজাত অবস্থায় পাওয়া যায়। গোয়েন্দা দল সেগুলো বের করে ইনভেন্ট্রি করে একটি গুদামে প্যাট্রনন্যানো দুই লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার শলাকা, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ শলাকা এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেছে। অপর গুদামে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা পাওয়া গেছে। এসব বিদেশি সিগারেট বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব প্রায় ৩০ লাখ টাকা। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এই চোরাচালান চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চলছে। এ চক্রটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহ করছে।
গোয়েন্দা দল স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করে জানতে পারে যে গোডাউন দুটি ভিন্ন ঠিকানায় হলেও প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। লোকটি ডিলারশিপ ব্যবসা করবে বলে ভাড়া নেয়। কি পণ্যের ব্যবসা করেন তা ভবন মালিক জানতেন না। গোডাউন হওয়ায় অধিকাংশ সময় দিনের বেলায় এটি বন্ধ থাকে এবং তাদের কার্যক্রম বেশি চোখে পড়ে না।
ভবনের দারোয়ানের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ সময় রাতের বেলা মালামাল নিয়ে আসে এবং পার্সেল করে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়। ভিতরে কি মাল থাকে তা তিনি জানেন না। গোডাউন মালিক সবাইকে বৈধ মালের ব্যবসা করেন বলে জানান। তাই কেউ তাকে সন্দেহ করেনি।
ভবন মালিক জানান, বৈধ ব্যবসার জন্য গোডাউন ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু সে অবৈধ মালের ব্যবসা করে এটা জানতাম না। ভবিষ্যতে গোডাউন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বলে গোয়েন্দা দলকে নিশ্চিত করেন।
জব্দকৃত সিগারেটগুলো অবৈধ বিধায় তা জব্দ করে নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু পূর্বানুমতি এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানি করা যায় না তাই অবৈধ সিগারেটগুলো পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হবে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক