‘ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি’
ভুয়া তথ্য ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে সরকারের একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের প্রায় ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে “ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬” আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হায়দার চৌধুরী এসব কথা বলেন।
হায়দার চৌধুরী বলেন, শুনে খুশি হবেন— মিসইনফরমেশন ও ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় মাল্টিপল ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সির সমন্বয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে। একইসঙ্গে আমাদের ২১জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সন্দেহজনক পোস্ট ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে জানিয়ে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্ট চেক করা হয়। যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে যাচ্ছে।
কনটেন্ট টেকডাউন করা হচ্ছে জানিয়ে হায়দার চৌধুরী বলেন, সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। বিটিআরসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করলে তারা তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। অনেক বানান বা উপস্থাপনা কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবুও গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।
ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, গতকাল যেসব কনটেন্ট নজরে এসেছে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। আজ থেকেই সেইগুলো আর দেখা যাবে না বলে জানান তিনি।
নির্বাচনকালীন ও নির্বাচনের পরেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য— মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন, হেট স্পিচ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কনটেন্ট যেন সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে।
ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবির ডেডিকেটেড ২৪ ঘণ্টার টিম রয়েছে উল্লেখ করে আইসিটি সচিব বলেন, আমাদের রিপোর্টের বাইরেও এসব সংস্থা আরও বহু কনটেন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই একই কনটেন্ট একাধিক সংস্থা থেকে রিপোর্ট হওয়ায় বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা, সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এ সময় আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রকল্প ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক