কৃষি মেলায় নজর কেড়েছে ‘শস্য মানচিত্র’
কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং তরুণ ও নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এই মেলার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়। একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় মোট ১৭টি স্টলে উপজেলার শতাধিক কৃষক, নার্সারি মালিক ও উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত বৈচিত্র্যময় কৃষি পণ্য প্রদর্শন করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। তবে এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান, সরিষা, পেঁয়াজ বীজ, সূর্যমুখী ও ডালসহ প্রায় ১২টি ফসলের দানা দিয়ে তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন ‘শস্য মানচিত্র’। মেলায় আসা দর্শনার্থী থেকে শুরু করে অতিথিরা- সবার নজর কেড়েছে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মটি।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সাজানো স্টলগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে উচ্চফলনশীল লাউ, বিটরুট, বেগুন, মাশরুম, ক্যাপ্সিকাম ও বিভিন্ন জাতের কুলসহ হরেকরকম কৃষি পণ্য।
কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, মেলার প্রদর্শনী দেখে কৃষিতে সকলে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। চমৎকার আয়োজনের মধ্যে সকলের নজর কেড়েছে শস্য মানচিত্রটি।
কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী সামিহা খাতুন বলেন, কলেজে পাশে হওয়ায় মেলায় আসার সুযোগ পেয়েছি। এখানে বড় বড় লাউ, পেঁয়াজ, মাশরুম, ক্যাপসিকাম, কুলসহ অসংখ্য পণ্য দেখে খুবই ভালো লেগেছে। আর ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের তৈরি শস্য মানচিত্রটি অসাধারণ হয়েছে। অনেকেই ছবি তুলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সরওয়ার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. ওয়াহিদউজ্জামান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকের ভাগ্য বদলে যাবে। আগামী বুধবার পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক পেশায় রূপান্তর এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফসলের ক্ষতি রোধ করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)