সৌরশক্তিতে বিনিয়োগে আগ্রহী স্কাইপাওয়ার
বাংলাদেশে সৌরশক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক কোম্পানি স্কাইপাওয়ার গ্লোবাল। কানাডাভিত্তিক এ কোম্পানিকে সৌরশক্তি উৎপাদনে বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সফল কোম্পানিগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হয়। কোম্পানিটি বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এই কোম্পানি বাংলাদেশের ১৫ লাখ বাড়িতে ব্যবহারের জন্য বাতি দেবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হোটেল ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (বিসিআইইউ) এক গোলটেবিল আলোচনাকালে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেরি এডলার এ কথা ঘোষণা করেন। গত শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বাসস।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে বিনিয়োগ করতে কোম্পানিটি সম্মত হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশের বিকাশমান বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে সমর্থন করার জন্য বিসিআইইউর প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করেছে। আমরা এখন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কীভাবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, তাতে গুরুত্ব দিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি খাতে এখন দেশি-বিদেশি উৎস থেকে বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং বিশেষ করে আইসিটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, তাই বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন, হালকা প্রকৌশল ও সাগর সম্পদ অন্বেষণ খাতগুলোয় বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিরাট সুযোগ রয়েছে।
‘বিরোধ নিষ্পত্তির পর ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ হওয়ায় সরকার নীল অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ব্যবসা করছে না, বরং প্রকৃত উদ্যোক্তা ও কোম্পানিদের ব্যবসা করার ভালো সুযোগ করে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকে বিশ্বের ২৭টি বৃহৎ কোম্পানির প্রধান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিসিআইইউর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার জে টিচানস্কি, স্কাইপাওয়ার গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেরি এডলার, আমেরিকান পাওয়ার করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় আগারওয়াল, জিপায়ার ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টমাস বেরি, মাস্টারকার্ড ইন্টারন্যাশনালের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ব্রান্ডট এবং এক্সেলারেট এনার্জির প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল বাসটোস গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও ড. গওহর রিজভী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন ডেস্ক