‘আমাকে বাঁচাও, মেরে ফেলবে’—স্ত্রীর ফোনে স্বামীর শেষ আকুতি, আসামি গ্রেপ্তার
‘আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেনসহ তারা আমাকে মেরে ফেলবে’—মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে ফোনে স্ত্রীকে আকুল স্বরে এই শেষ আকুতি জানিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া। এরপরই উদ্ধার করা হয় তার নিভে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। চাঞ্চল্যকর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার ছেলে সজীবকে ১৪৫ দিন পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি এলাকা থেকে গোপন অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জাকিরের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে দেবিদ্বার থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের জালে তোলে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ সময় ধরে জাকির হোসেন দেবিদ্বারের একটি স্থানীয় বাজারে আত্মগোপনে থেকে ফেরি করে কলার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ১৩ মে বুধবার দিবাগত রাতে কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ মিয়াকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি স্ত্রী আয়েশা বেগমের মোবাইলে কল করে জাকির হোসেনের দলবল তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে বলে চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানান। স্বজনেরা দ্রুত অভিযুক্ত লসকর মিয়ার বাড়ির দিকে ছুটে গেলেও গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই বাড়ির ১৫০ ফুট দূরের একটি নির্জন ধানের জমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হানিফ মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করার পর থেকেই প্রধান আসামি জাকির ও তার ছেলে সজীব আত্মগোপনে চলে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অর্পণ বিশ্বাস জানান, আজ বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মামলার অপরাপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব