ওই ব্যক্তি হর্ন শোনেননি, তাই ঘটনা ঘটে গেছে : আইনজীবী
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফের অধিকতর জামিন শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর (রোববার) পুনরায় দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই দিন ধার্য করেন। এদিন কিশোর আজান আলী শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে আইনজীবী বলে, নিহত ব্যক্তি (মেহেদী হাসান) শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। হর্ন দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি কানে শোনেননি। এজন্য ঘটনাটি ঘটে গেছে।
আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। কিশোরের নাম এজাহারে নেই। নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিশোর বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।
এরপরে বিচারক বলেন, আপনারা কী দেখেছেন, এই মামলায় কী পরিমাণ মিডিয়া কাভারেজ হয়েছে। মামলার ধারা জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য কোনোটিই নয়। এই মামলা জামিন অযোগ্য। এ সময় আইনজীবীরা কিশোর বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আবেদন করে বলেন, ‘স্যার, আমরা তো আপস-মীমাংসা করেছি।’
এ সময় বিচারক বলেন, ‘আমি আইনের কথা বলব, নাকি আমার কথা বলব। আপনারা জামিন শুনানি করেন। নথি দেখে আদেশ দেব, বা পরে আদেশ দিতে পারি। আজকে আদেশ নাও হতে পারে।’
পরে আইনজীবীরা জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত আছেন এবং জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বিচারক জানতে চাইলে নিহতের বড় ভাই, বাবা ও মামা কাঠগড়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
এ সময় বিচারক বলেন, ‘ঘটনাটি কিন্তু অনেক গুরুতর। একটি সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সমাজ একটি ন্যায়বিচার দেখতে চায়। যদিও এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নেই। তবুও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।’
বিচারক আরও বলেন, ‘শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকলে এতক্ষণে হয়ে যেত। আপনাদের এতক্ষণ বসে থাকতে হতো না। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে মিডিয়া কাভারেজ হয়েছে। আমাদের সব দিক দিয়ে বিবেচনা করতে হয়।’ এরপরে বিচারক আগামী ৪ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে আইনজীবী এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, এই কিশোর গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী একজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো সত্ত্বেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে যায়। স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নগদ ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারের ডান পাশের ড্রাইভিং সিটের দরজা খুলে কিশোর আজান আলী শরীফকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তকালে আজান আলী শরীফের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহণ আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সেখানে অভিযোগ করা হয়, আসামি আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে প্রাইভেটকার চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করেন এবং এতে তার মৃত্যু ঘটে।

আদালত প্রতিবেদক