শান্তি বিনির্মাণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
সবার জন্য শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জাতীয় নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে টেকসই সহায়তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এ খাতে আরও ধারাবাহিক বিনিয়োগের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। ঢাকায় পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য শান্তি বিনির্মাণকে আরও শক্তিশালী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিণত করি।’
শান্তি বিনির্মাণ জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে নারী ও তরুণদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
এ অধিবেশনে বাংলাদেশ পিবিসির ভাইস-চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তি টেকসই করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কমিশনের কাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে শান্তি বিনির্মাণে উত্তরণের সময় পিবিসির পরামর্শমূলক ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কমিশনের সব কার্যক্রমে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এবং ‘যুব, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা সমন্বিত করা এবং ২০২৫ সালের শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো পর্যালোচনার সুপারিশ কার্যকরভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন করা।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের তিন দশকেরও বেশি সময়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, নারীসহ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলায় দেশের অঙ্গীকারকে আরও গভীর করেছে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকার মানুষের অধিকার সুরক্ষা, নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংহতি জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)