প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে জুনান-রুবেল হত্যার বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি
২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের নারানখাইয়া ও স্বনির্ভর এলাকায় গুলিতে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, আহতদের ক্ষতিপূরণ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে স্বজনরা।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন গাড়ি বহর নিয়ে খাগড়াছড়ির গিরিফুলে একটি ছাত্রাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে জামতলী এলাকায় নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি দেওয়ারা হয়।
এ সময় শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা, শহীদ রুবেল ত্রিপুরার মা নিরন্তা ত্রিপুরা, আহত পহেল চাকমা ও নলেজ চাকমাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত এলাকাবাসী প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সামনে ‘জুনান-রুবেল খুনিদের শাস্তি চাই; স্বনির্ভর গণহত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী গাড়ির ভিতর অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় তাঁকে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। এ সময় নিহত জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা তাঁর পরিচয় দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি সন্তানহারা একজন মা। সন্তান হারানোর কত বেদনা তা আমি জানি। আমি আপনার কাছে তার সুবিচার চাচ্ছি।’
রূপসা চাকমা কত সময়ের মধ্যে বা কত মাসে তার আবেদনের সুরাহা হবে, তা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চান এবং তাকে গাড়ি থেকে নেমে তাদের সাথে কথা বলার অনুরোধ করেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমি আপনাদের খুশি করার জন্য যদি বলি এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহে করব—তাহলে এটা সঠিক হবে না। আমি ঢাকায় ফিরে যাই। আগামী রোববার অফিস খুলবে। আমি আগে আবেদনটা দিই। সে বিষয়ে তদন্ত হোক। তদন্ত হলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জেলা সদরে বাঙালি মোটরসাইকেল চালক মামুন হত্যার জের ধরে দীঘিনালা ও জেলা সদরে সহিংস ঘটনা ঘটে। এর জেরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দোষী বা দায়ীদের চিহ্নিত করা ও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি