শিশু সাবা হত্যা : প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
ঝিনাইদহ শহরের চাঞ্চল্যকর সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি সান্ত্বনা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহা. হেলাল উদ্দিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সান্ত্বনা খাতুন ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পবহাটি গ্রামের ভ্যানচালক আক্তারুজ্জামান মাসুদে দ্বিতীয় স্ত্রী।
মামলার বিবরণ ও আদালত থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ঝিনাইদহ জেলা শহরের পবহাটি এলাকার ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের সাড়ে ৩ বছরের শিশু কন্যা সাইমা আক্তার সাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি সান্ত্বনা খাতুন শিশু সাবার নিথর দেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে বস্তায় ভরে অতি গোপনে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করে। রাস্তায় লোকজনের উপস্থিতি দেখে সে আবার ঘরে ফিরে যায়। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক হলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সান্ত্বনার বসতঘর ঘেরাও করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে খাটের নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় সাবার মরদেহ উদ্ধার করে। সান্ত্বনাকে আটক করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সান্ত্বনা।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।
এদিকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেও রায়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা-মা ও স্বজনেরা। রায় ঘোষণার পরপরই তারা আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক আলম বলেন, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য দিয়ে আমরা আদালতে আসামির অপরাধ প্রমাণ করেছিলাম। আসামি নিজেই বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। এত বড় জঘন্য ও নির্মম শিশু হত্যাকাণ্ডে আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশিত ছিল। ফাঁসির পরিপূরক হিসেবে যাবজ্জীবন দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ