মরিয়মকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মেঝেতে পুঁতে রাখেন জামিলুল : পুলিশ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের স্কুলছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর মরদেহ গুম করতে নিজের বসতঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে শিশুটিকে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন ঘাতক জামিলুল ইসলাম। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ঘরের মেঝে থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায়।
মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও স্নেহাশিস রায় বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় মরিয়ম। পরবর্তীতে স্কুলে না যাওয়ার খবর জানতে পেরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিধুলী ইউনিয়নের চরলোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ এবং ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন : বসতঘরে মাটিচাপা দেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও স্নেহাশিস রায় আরও বলেন, জামিলুলের বড় মেয়ে ও মরিয়ম একই শ্রেণিতে পড়ত। ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে আসা মরিয়মকে ধর্ষণ করে এবং ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে জামিলুল। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় পেনাল কোডে মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাহিদ হাসান, জামালপুর (সদর-মেলান্দহ)