ফেস রিডিং করে সংসদে ঢোকার অনুরোধ চিফ হুইপের
সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় সংসদ সদস্যদের ফেস রিডিং ডিভাইসে মুখমণ্ডল শনাক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোন হ্যাক করে জরুরি টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানানো এবং ভয়েস ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একটা ফেস রিডিং ডিভাইস আছে। আমাদের সব লবিতে ফেস রিডিং করা হয়। তো আমি সব সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করবো, যাতে প্রত্যেকে ফেস রিডিং করে হাউজে ঢোকেন।’ তিনি বলেন, ‘আজ যেহেতু শেষ দিন, যাওয়ার সময় যেন তারা হাউজে তাদের ফেস রিডিং করে দেন। এটা সবার অবগতির জন্য বলছি।’
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আজকে পত্রিকা এসেছে যে মোবাইল ফোনে টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমি কালকে এখানে বসে শুনেছি, আমাদের তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন—তাদের ফোনে এমন কল এসেছে, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান! তিনি বলেন, যেসব নম্বর থেকে এসব বার্তা পাঠানো হয়েছে, সেসব সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। মানে ফোন হ্যাক হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এ বিষয়টি আপনারা জানলে সারা বাংলাদেশ জানবে বলে আমি মনে করি। আর এই টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুক—ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে এই কাজটা করছে কিছু কিছু মানুষ। তিনি বলেন, সিগনেচারকে টেম্পার করে একটা কাগজ হাজির করছে, সেটাও প্রবলেম হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যের হয়েছে, সরকারি দলের অনেক সদস্যের হয়েছে। কাজেই এই ব্যাপারেও সচেতন হওয়ার জন্য আমি সব সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উনার বক্তব্যের পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি উত্থাপন করায় চিফ হুইপকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান।
এসময় চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে অলরেডি গতকালই কথা বলেছি। আর যে প্রটেক্টিভ মেজার যা নেওয়া সম্ভব, সেটা অলরেডি বিটিআরসি করার চেষ্টা করছে। গতকালই কথা বলেছি, যাতে এই সমস্যার আমরা সমাধান করতে পারি। এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এক্সিলেন্ট। এটাই শুনতে চেয়েছিলাম।’

নিজস্ব প্রতিবেদক