সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে টেন্ডার, বছরে ৩৮ লাখ টাকা লোকসানের শঙ্কা
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের খাবার ও স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বছরে সরকারের প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে দাবি করেছেন সর্বনিম্ন দরদাতা সরবরাহকারী মো. আলতাফ হোসেন।
এ ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে আলতাফ হোসেন বলেন, গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দরপত্রে রোগীদের খাবার ও স্টেশনারি- দুই গ্রুপেই তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা হন। রোগীদের খাবার সরবরাহে তার দর ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অথচ ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দর দেওয়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ৩২ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
অন্যদিকে, স্টেশনারি সামগ্রীর জন্য তার দর ছিল ১২ লাখ টাকা। সেখানে ১৮ লাখ টাকা দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দুই গ্রুপে মোট ৩৮ লাখ টাকা বেশি দরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
আলতাফ হোসেন আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রোগীদের খাবারের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং স্টেশনারির জন্য ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডারসহ দরপত্র জমা দেন তিনি। দীর্ঘ আট থেকে নয় বছর ধরে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
দরপত্র প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী তাকে কার্যাদেশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই সরবরাহকারী।
সর্বনিম্ন দরদাতাকে কেন কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, তা জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তিনি ছুটিতে থাকায় তার দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. কবির হাসান বলেন, অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তত্ত্বাবধায়ক ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে অবগত নই।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সকল সরকারি দপ্তর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই কাম্য। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী