গোমতীর ভাঙনে বিলীনের পথে রঘুরামপুর, আতঙ্কে ৫ হাজার মানুষ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রঘুরামপুরে গোমতী নদীর ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় ৪–৫ হাজার মানুষ। গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন নদী চলে এসেছে বসতভিটার একেবারে কাছে। ফলে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে গোমতী নদীর বাঁক ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। নদীভাঙনে ফসলি জমির পাশাপাশি গ্রামের প্রধান সড়কের বড় একটি অংশও নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে কৃষিপণ্য পরিবহণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষক কাসেম মিয়া বলেন, গোমতীর ভাঙনে তাদের অনেক ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙন বন্ধ করা না গেলে বসতভিটাও নদীর কবলে পড়তে পারে।
বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, নদী এখন বাড়িঘরের খুব কাছে চলে আসায় পরিবার নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় রঘুরামপুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো। স্থানীয়দের দাবি, সেই ক্ষতির রেশ এখনও কাটেনি।
এদিকে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদ। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করছেন রঘুরামপুরের মানুষ। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নদীর লুপ কাটিং, জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাধ্যমে রঘুরামপুর গ্রামটি রক্ষায় কাজ করা হবে।

ইসহাক হাসান, কুমিল্লা (মুরাদনগর-দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া)