যাত্রীছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে আক্কেলপুর রেলস্টেশনের যাত্রীদের দুর্ভোগ
বৃষ্টি নামলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি, আর তীব্র রোদে ছায়ার জন্য হাহাকার- জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের নিত্যদিনের চিত্র এটি। দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহৃত হলেও সেখানে কোনো যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রীকে।
স্টেশন সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে এবং দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ায়। তবে প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্মে ছাউনি না থাকায় বৃষ্টিতে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ভিজে নষ্ট হয়। অন্যদিকে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয় শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের।
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে যাত্রীরা ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার বা আশপাশের দোকানে আশ্রয় নিলেও ট্রেনের ঘোষণা হলে বা ওঠা-নামার জন্য বাধ্য হয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগেই খোলা প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চলাচলকারী যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যাটফর্মটিতে যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ট্রেনযাত্রী বাবুল বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেন। অথচ সেখানে কোনো ছাউনি নেই। বিষয়টি কষ্টদায়ক। দ্রুত একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা দরকার।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীছাউনি না থাকায় যাত্রীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন। আগামীতে রেলের একটি এক্সটেনশন কাজ করার কথা রয়েছে। সে সময়ই সেখানে যাত্রীছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এস আই পাভেল, জয়পুরহাট (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর)