দেখাদেখি করতে না দেওয়ায় কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর পরীক্ষার্থীদের
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না দেওয়ার ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় কলেজ কমিটির সভাপতিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং একজন আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নকল করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকেন কক্ষ পরিদর্শকরা। এতে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা বহিরাগতদের নিয়ে কলেজের গেট ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এই ঘটনায় কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির সিকদারসহ অন্তত পাঁচ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা দাবি করে যে তাদের প্রশ্ন কমন পড়েনি। তাই তাদেরকে দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কিন্তু কক্ষ পরিদর্শকরা এই অনৈতিক দাবিতে রাজি হননি। এর জের ধরে পরীক্ষা শেষ হতেই পরীক্ষার্থীরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ও পরীক্ষার খাতা লুটপাটের চেষ্টা চালায়। আমরা জীবন বাজি রেখে পরীক্ষার খাতা রক্ষা করেছি। তারা আমার অফিস ভাঙচুর করেছে।’
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ, থানার ওসিসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আফজাল হোসেন, ভোলা