দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আলহাজ রাজিউর রহমান রবি (৬৫) ও সকাল বর্মণ (৩৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার বীরগঞ্জ-গোলাপগঞ্জ সড়কের উত্তর সুজালপুর এবং বিকেলে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের দলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৃথক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত আলহাজ রাজিউর রহমান রবি বীরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মৃত আলহাজ্ব আব্দুল বারি মিয়ার ছেলে। অন্য নিহত সকাল বর্মণ বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের জামিনী বর্মণের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টার দিকে পৌর শহরের নিজ বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে দেবীপুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রাজিউর রহমান রবি। পথে উত্তর সুজালপুর এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি ট্রাক্টর তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের দলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি দ্রুতগতির ট্রাক যাত্রীবাহী একটি চার্জার ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সকাল বর্মণ নামের ওই নারী নিহত হন। এ সময় ভ্যানে থাকা তার ৬ বছরের শিশুপুত্র তুষার এবং ভ্যানচালক আপেল (৩৫) গুরুতর আহত হন। ভ্যানচালক আপেল দোগড়াই খাটিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
বীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নীহাররঞ্জন সরকার বলেন, সকাল বর্মণ ভ্যানযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে জামাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দলুয়া বাজার এলাকায় দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে উত্তর সুজালপুর এলাকায় দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টর ও এর চালক পালিয়ে গেছে। দুই ঘটনায় নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)