সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সোহেল সরকার আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংগঠনের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সরকারবিরোধী কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এসব আলামত যাচাই, তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের উৎস এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ একটি অবৈধ মিছিল বের করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তারা লাঠিসোটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলার প্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত প্রতিবেদক