সবার নজরে এক টনের ‘সম্রাট’
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে ঐতিহ্যবাহী কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন হাটে খামারিরা তাদের পশু তুলছেন। পাহাড়ের প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা গরুর চাহিদা বেশি থাকায় স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সমতল অঞ্চল থেকে বেপারীরা আগেভাগেই পশু সংগ্রহ করতে খাগড়াছড়িতে ছুটে আসছেন।
এবারের কোরবানির বাজারে খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’। কুচকুচে কালো রঙ, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন আর দানবীয় আকৃতির কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে গরুটি।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ‘শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড’-এ বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল ষাঁড়টিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সম্রাট’র বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি, অর্থাৎ এক টনেরও বেশি! এবারের কোরবানির বাজারে গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
খামারের কর্মচারী মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্মের পর থেকেই কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে ‘সম্রাট’কে বড় করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন তার খাবার ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকারও বেশি। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া এবং চালের ভাত রয়েছে তার রাজকীয় খাবারের তালিকায়।
খামারের আরেক কর্মচারী জুলহাস মিয়া জানান, গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো মায়া দিয়ে বড় করা হয়েছে। শুধু ‘সম্রাট’ নয়, এই খামারটিতে এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে পঙ্খিরাজ, তেরে নাম, বাহাদুরসহ আরও ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল ও কয়েকটি গাড়ল।
খামারের ম্যানেজার জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে, যার বেশ কয়েকটির ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজি। খামার থেকে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি তাঁদের মূল সেলস সেন্টার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীতে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে আরও ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা জানান, পাহাড়ের আবহাওয়ায় কাঁচা ঘাস ও শুকনো খড় খেয়ে বড় হওয়া গরুর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো- এরা দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হলেও মাংসে চর্বি অনেক কম থাকে। এ অঞ্চলের গরুতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে খাগড়াছড়ির পাহাড়ের গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ ও সুস্বাদু।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি