পাচারকালে সরকারি সার জব্দ, ডিলারকে জরিমানা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাচারকালে ১০ বস্তা টিএসপি ও ১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন স্থানীয়রা কৃষকরা। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের নাউতি ভবানীপুর এলাকা থেকে এই ২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেন তারা।
পরে জব্দকৃত সার হেফাজতে নিয়ে প্রকৃত মালিকের সন্ধানে নামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরপর
যাচাই-বাছায় শেষে সন্ধা ৭টার দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মো. মকুল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া জব্দ করা সার ন্যায্যমূল্যে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও থানা পুলিশ। ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অর্থ নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আদালত জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার সার খোকসা পাচার হচ্ছিল। প্রতিদিনই ভ্যানে এমন সার পাচার হয়। সন্দেহজনকভাবে ভ্যান থামিয়ে পাচারের প্রমাণ মিললে প্রশাসনকে জানানো হয়।’
অভিযুক্ত ভ্যানচালক মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি শিলাইদহ বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ১০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০ বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন। সারের প্রকৃত মালিক খোকসার শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম। সেখানে যাওয়ার পথে লোকজন তাকে আটক করেছে।
শোমসপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে শিলাইদহের ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। আজ ৩০ হাজার টাকায় ২০ বস্তা কিনেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ঘটনাস্থলে থাকা শিলাইদহের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অমান্য করে এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)