ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড় ধস
কয়েক ঘণ্টার আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি সদর এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলায় মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে চেঙ্গি ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক এই বন্যায় প্লাবিত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মুসলিম পাড়া, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, নিচের বাজার, ফুটবিল, খবং পড়িয়াসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। একইভাবে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি বাড়ায় অনেকে ঘরবাড়ি থেকে মালামাল বের করতে পারেননি; গবাদিপশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীরা উঁচু সড়ক ও দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন। জলোচ্ছ্বাসে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সকাল থেকে কাজ করছেন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়ে যান চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ও স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল পুনারায় চালু করে। সড়কে পানি জমে থাকায় ঢাকা থেকে সাজেকগামী পর্যটকরা দুপুর পর্যন্ত দীঘিনালার মাইনী ব্রিজ এলাকায় আটকে ছিলেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত ও পৌর প্রশাসক রোমানা আক্তার।
জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি