মসজিদের ছাদে টিকটক : সেই স্কুলছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মসজিদের ছাদে টিকটক ভিডিও ধারণকারী স্কুলছাত্রীর ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেনের নির্দেশে তার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান।
গতকাল সোমবার দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
শিক্ষার্থীর ছাড়পত্রের কপিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। কেউ কেউ বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত সঠিক বললেও অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য করেন। বিষয়টি ইউএনওর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। পরে আজ মঙ্গলবার শিক্ষার্থীর মায়ের ছাড়পত্র প্রত্যাহারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ছাড়পত্রটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ইউএনও। নির্দেশনা পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীর ছাড়পত্রটি প্রত্যাহার করে নেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে এমন ভুল হয়েছে। তবে ছাড়পত্র দেওয়া ওই শিক্ষার্থীর মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ইউএনওর নির্দেশে তার ছাড়পত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক বিধিমালা মানা হয়নি। বিষয়টি বুঝতে পেরে এবং শিক্ষার্থীর মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাড়পত্রটি প্রত্যাহার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
কিছুদিন আগে স্কুলড্রেস পরে দেওয়ানগঞ্জ মডেল মসজিদের ছাদে গিয়ে টিকটকের জন্য ভিডিও তৈরি করেন ওই স্কুলছাত্রী। পরে তা টিকটকে পোস্ট করে। সম্প্রতি সেই ভিডিওটি টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলছাত্রীর এমন কর্মকাণ্ডে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে ওই বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। পরে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরা যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস না পায়, সেজন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল সোমবার বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর