নাসিরনগরে হাওরে তলিয়ে গেছে ৩০৫ হেক্টর জমির ধান
অনুকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এতে নতুন করে কোনো কৃষির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে হাওরের পানে বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তত ৩০৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে।
যদিও কৃষক বলছে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। এতে কষ্টে ফলানো সোনালি ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে আকাশ ভালো থাকায় ও রৌদ্রোজ্জ্বল দিন হওয়ায় স্বস্তি রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তারা তাদের কষ্টের ফসল বাঁচাতে হাওরের দিকে ছুটছেন। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোথাও বুক পানি আবার কোথাও কোমর পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে তাদের। এ ক্ষেত্রেও রয়েছে শ্রমিক সংকটের বিড়ম্বনা। এদিকে আকাশ ভালো থাকায় হাওরপাড়ে বেড়েছে কেটে আনা ফসল শুকানোর ব্যস্ততা।
কৃষকরা জানায়, দুই দিন ধরে হাওরের পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন জমিও তলিয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। বেশিরভাগ কৃষক ধার-দেনা ও সুদের উপরে জমিতে ফসল করেছিল। কিন্তু ঢলের কারণে সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, নাসিরনগরের হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। তবে আগাম পানি আসার আগেই ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এত এক হাজারের উপরে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়াসহ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া