সংবাদ প্রকাশের পর টাকা দাবি করা সেই নার্সকে অব্যাহতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে সরকারি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সময় আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের কাছে অবৈধভাবে টাকা দাবি করার অভিযোগে সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা আক্তারকে অবশেষে তার মূল দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
টাকা দাবি করার ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আজ শনিবার (৬ জুন) কসবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়।
রোগীদের সঙ্গে ক্রমাগত অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং রোগীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা চাওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রচারিত হওয়ায় মূলত প্রশাসনিক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি কসবা উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই অবুঝ শিশু বিড়ালের কামড়ে গুরুতর আহত হলে তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগের সময় সেখানে দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার দুই শিশুর স্বজনদের কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০০ টাকা দাবি করেন। সরকারি টিকা দিতে টাকা কেন লাগবে—স্বজনদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন তুলে টাকা দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ওই নার্সের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া শুরু হয়। এ ঘটনার একটি লাইভ ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়; যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।
নিন্দনীয় এই ঘটনার পর কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত নার্সকে কড়া ভাষায় শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। এরপর জেলা সিভিল সার্জনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে জারি করা এক বিশেষ অফিস আদেশে ওই নার্সকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
ওই বিশেষ অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাময়িক এই অব্যাহতির পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি সুচারুভাবে খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে; তদন্তে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর সুপারিশ করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ বা বকশিশ নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না; অভিযোগের বিষয়টি শতভাগ তদন্ত করে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাইদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (আখাউড়া-কসবা)