এক ভোট নিয়ে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ৭
এক বৃদ্ধের কাছে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারে এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুর রহমানের (৮০) কাছে ভোট প্রার্থনা করেন বিএনপির কর্মীরা। ওই বৃদ্ধ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে জামায়াত কর্মীরা তার বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনা মীমাংসার জন্য আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাসিলিয়া বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মীরা হলেন- জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন (৪৫), সমর্থক খাইরুল হাসান রিন্টু, তুহিন হোসেন (৩২) ও হাবিবুর রহমান। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, জামায়াতের আহতরা হলেন- ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এস এম আবু দাউদ (৪০), ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মাসুম বিল্লাল (২২) ও উপজেলা ওলামা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইদুল ইসলাম (৩৩)। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
আহত বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিনের অভিযোগ, জামায়াতের লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। খোকসা উপজেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কারা সংঘর্ষের সূচনা করেছে তা তিনি জানেন না।
পাল্টা অভিযোগ করে জামায়াত নেতা এস এম আবু দাউদ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে। সালিশ চলাকালে তারাই অতর্কিত হামলা করেছে।
দুপুরে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান কুষ্টিয়া-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি বলেন, নির্বাচন বাঞ্চাল করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এই হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আফজাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আজকের হামলাও তারই অংশ।
খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানান, ভোট চাওয়া নিয়ে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)