ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে কুপিয়ে জখম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনি প্রচারণা ও ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দোস্তরদিয়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের দুই ছেলে আবিদ হাসান রনি (২৫) ও আলিফ হাসান (২৩)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুই ভাইয়ের বুক, পেট ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে। ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
আহতদের বাবা জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের ফুটবল প্রতীকের সমর্থক। বিকেলে নির্বাচনি ব্যানার টানানোর সময় বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক জিহাদ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডার জেরে জিহাদ ও তার সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমার কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম দাবি করেন, বিএনপির কোনো কর্মী এই হামলায় জড়িত নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনেক দেনা রয়েছে, পাওনাদাররা এই হামলা করতে পারে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর