জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন হাফিজুর রহমান
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
মাওলানা মো. হাফিজুর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে উলিপুর মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার হিসেবে। দীর্ঘ ১৮ বছর সেখানে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালে নন্দীগ্রামের দামগাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে তিনি নিজ বিদ্যাপীঠ শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে তার প্রাপ্তি আকাশচুম্বী। ২০০৪ সালে তিনি ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেন। শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবেও তিনি পদকপ্রাপ্ত।
মাওলানা হাফিজুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। সুবিশাল কুরআনের রেহাল সংবলিত গেট, নতুন একাডেমিক ভবন এবং কামিল তাফসির বিভাগসহ অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ তার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বাক্ষর বহন করে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবা ও গবেষণায়ও সক্রিয়। নিজ গ্রামে একাধিক মাদ্রাসা ও সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। সম্প্রতি তার সম্পাদিত ৮০০ পৃষ্ঠার ধর্মীয় গ্রন্থ ‘জান্নাতের রত্ন ভাণ্ডার’ পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদার্রেছীন বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও শেরপুর উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জাহিদ হাসান বগুড়া (শেরপুর-নন্দিগ্রাম)