মানিকগঞ্জে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ৯
মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আব্দুল মান্নানসহ ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা।
নাজমুন আরা সুলতানা জানান, মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আজ থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
মানিকগঞ্জ–১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জনতা দলের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপরজন হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী। এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
মানিকগঞ্জ–১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. হেদায়েতুল্লাহ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির দিলীপ কুমার দাশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খোরশেদ আলম।
মানিকগঞ্জ–২ (সিংগাইর ও হরিরামপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বাতিল প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও দলটির মনোনীত প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নান। ঋণখেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান নোমান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক মোল্লার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
মানিকগঞ্জ–২ (সিংগাইর ও হরিরামপুর) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাঈনুল ইসলাম খান শান্ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. সালাউদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী।
মানিকগঞ্জ–৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান আতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও প্রবাসী রফিকুল ইসলাম, এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. ফারুক হোসেন। এবি পার্টির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় এবং অন্য তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মানিকগঞ্জ–৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা, গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান কামাল (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহা. দেলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ জাসদের মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর, জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামসুদ্দিন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ