কবিরাজ রেখা রানী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আটক ১
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কবিরাজ রেখা রানী রায়কে (৬৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যার দায়ে মীর হোসেন (৪৮) নামে একজনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার (২ মার্চ) শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা থেকে মীর হোসেনকে (৪৮ ) গ্রেপ্তার করা হয়।
কবরস্থানে হাড় ও মাটি আনতে গিয়ে রেখা রানী রায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মীর হোসেন ২৪ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে কাঁচি নিয়ে চাইনপাড়া পারিবারিক কবরস্থানের জঙ্গল পরিষ্কার করতে যান। মাগরিবের নামাজের প্রায় ১০ মিনিট আগে ভিকটিম রেখা রানী রায় কবরস্থানে এসে প্রবেশ করতে চাইলে মীর হোসেন হিন্দু মহিলা হওয়ায় তাকে কবরস্থানে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু ভিকটিম বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক কবরস্থানে প্রবেশ করে পুরাতন ও ভাঙা কবর থেকে মানুষের হাড়, মাটি ও প্ৰজাপতি গাছের শিকড় তোলার চেষ্টা করলে ভিকটিমের সঙ্গে আসামির তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আসামি মীর হোসেন ভিকটিমকে ধাক্কা দিলে ভিকটিম রেখা রানী রায়ও তাকে পাল্টা আঘাত করার চেষ্টা করেন। এতে আসামি মীর হোসেন রাগান্বিত হয়ে রেখা রানীর পরা শাড়ির আঁচল দিয়ে গলা প্যাঁচিয়ে ধরেন, এর ফলে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আসামী ভিকটিমের নাক ও মুখে হাত দিয়ে দেখেন তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। এতে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং তার বুকে ও পিঠে হাত দিয়ে মালিশ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও তার জ্ঞান ফিরে না এলে মীর হোসেন তার কোমরে থাকা গামছা ছিঁড়ে রেখা রাণী রায়ের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে টেনে হিঁচড়ে মরদেহ গোপন করা উদ্দেশে পাশের আবুল হোসেনের আলুর গোলার পেছনে ধানক্ষেতের পানিতে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এরপর ১৬ অক্টোবর সিরাজদিখানের চাইনপাড়ার আবুল তালুকদারের ধান ক্ষেতে থেকে রেখা রাণীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিরবচ্ছিন্ন তদন্তে নিশ্চিত হন, আসামী মীর হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত ২ মার্চ প্রযুক্তির কলাকৌশল ব্যবহারে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ আরও জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার মীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মর্মে আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ