সরকার ও দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
১৭ বছর পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির দলীয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের বিভিন্ন সুত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের বলেছেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্বপালেনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসে থাকবে নিরাপত্তা। উর্দিধারীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিমের সদস্যরা।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ঢাকা মহানগর জুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে যে বড় ধরনের জনসমাগম হবে, তা শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদরদপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা হবে, মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন্স সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) ও পুলিশ সমন্বিতভাবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বাসা, অফিস এলাকা ও চলাচল পথ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তারেক রহমানের জন্য। নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ঘাটতিও যেন না হয় তার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন। বিশেষ করে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যেসব রাস্তায় ঝুঁকি রয়েছে বা রাজধানীর যেসব এলাকায় ঝুঁকি রয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া তারেক রহমানের চলাচলের পথের নিরাপত্তাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এ কার্যক্রম ডিএমপি সদরদপ্তর থেকেই তদারকি করা হবে।
জানা গেছে, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকে। সেই সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কোনো কারণে তারেক রহমানের বাসা প্রস্তুত না হলে তিনি মায়ের বাসা ফিরোজায় উঠবেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়াও যদি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তাহলে বাসায় অবস্থানকালে এসএসএফের নিরাপত্তা পেতে পারেন তারেক রহমান। তখন তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এসএসএফ, সিএসএফ ও পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কাঠামো আরও জোরদার হবে।
সম্প্রতি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে তার নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। দেশে ফেরার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস পেয়েছেন। বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা যাত্রী ছাড়া বাকিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক বার্তায় জানিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ছাড়া সবধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটর প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক