দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তারেক রহমানের
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই। নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই এবং এর আগে তিনি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণও করেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান। এজন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের দাখিল করা হলফনামায়র দেখা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাস। পেশা রাজনীতি এবং বয়স ৫৭ বছর।
২০২৫-২৬ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তারেক রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে জমা ও নগদ রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার বেশি। শেয়ার বা বন্ড রয়েছে ৬৮ লাখ টাকার। ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে ৯০ রাখ ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। সঞ্চয় ও আমানত রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। তার আসবাপত্রের মূল্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার কাছে থাকা সোনা ও ধাতুর মূল্য দুই হাজার ৯৫০ টাকা (অর্জনকালীন)
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, দুই একরের বেশি অকৃষিজমি যার অর্জনকালীন মূল্য তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা।তবে তারেক রহমান ও তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ঋণ নেই।
এছাড়া, তারেক রহমানের চিকিৎসক স্ত্রী জুবাইদা রহমান ২০২৫-২৬ সালের করবর্ষে প্রায় ৩৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা আয় করেছেন। ওই সময়ে তিনি আয়কর দিয়েছেন পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এরমধ্যে তার নামে ব্যাংকে ও নগদ রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এফডিআরের পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকা। জুবাইদার নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
অন্যাদিকে, তারেক রহমানের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ৭৭টি মামলা ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে কোনো মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। কোনোটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বা খারিজ হয়েছে অথবা কোনোটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।
২০০৪, ২০০৭, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দায়ের করা হয়েছিল এসব মামলা। এর মধ্যে ২০০৭ সালের মার্চে জরুরি ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলা থেকে ২০০৯ সালে বেকসুর খালাস পান তিনি এবং মামলাটিও খারিজ করে দেওয়া হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সবেচেয় বেশি মামলায় খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া ২০১৪ সালে একটি, ২০১৫ সালে তিনটি, ২০১৬ সালে আটটি, ২০১৭ সালে ছয়টি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০১৯ সালে পাঁচটি, ২০২০ সালে একটি, ২০২১ সালে একটি এবং ২০২২ সালে পাঁচটি মামলায় খালাস পান তিনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক