কিশোরীকে দেহ ব্যবসা করানোর অভিযোগে বাবা-মাসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক মেয়েকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে মা-বাবার বিরুদ্ধে। গত পাঁচ মাসে ১২৫ বার যৌন নির্যাতন চালানো হয় ওই কিশোরীর ওপর। অবশেষে পুলিশের সহায়তা চাইলে মা-বাবা ও যৌন নিপীড়নে জড়িত থাকার অভিযোগে মধু ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ি মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কিশোরীর মা নাসরিন বেগম, বাবা সামসুল সিকদার ও মধু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম।
লিখিত এক অভিযোগে কিশোরী উল্লেখ করেছে, ওই কিশোরীর মা ও বাবা দুজনেই বাসায় বসে মাদক ও নারী ব্যবসা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকমাস ধরে ওই কিশোরীকে দেহ ব্যবসার কথা বলছিলেন মা-বাবা। কিন্তু কিশোরী তাতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিনিয়ত মারধর করা হতো। জুন মাসে মা নগরীর মুনসুর কোয়াটার এলাকার মিম মধুঘরের মালিক আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের বাসায় নিয়ে আসে। এ সময় আনোয়ারের সঙ্গে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আটকে রাখে। পরে আনোয়ার তাকে ধর্ষণ করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জুন থেকে অক্টোবর এই পাঁচমাসে তার মা-বাবার সরাসরি সহায়তায় ১২৫ বার যৌন নির্যাতন করেছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঘর থেকে পালিয়ে ওই কিশোরী বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানকে বিস্তারিত জানায়। তিনি তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানাকে নির্দেশনা দেন। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোরীর দেওয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তার মা, বাবা ও ব্যবসায়ীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্যাতিত কিশোরীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।’

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল