এই মুহূর্তে মক্কা চুক্তিতে সদস্য বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই : পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। তারা আরও জানিয়েছে, এই মুহূর্তে চুক্তির সদস্য দেশ সম্প্রসারণের বিষয়টি তাদের বিবেচনায় নেই। খবর পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তিটি মূলত প্রতিরোধ সক্ষমতার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট।
সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, চুক্তিটির সদস্য সম্প্রসারণ এই মুহূর্তে বিবেচনায় নেই এবং পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ককে প্রথমে তাদের নিজস্ব সংগঠন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি সুদৃঢ় করার পর তা সমমনোভাবাপন্ন এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণকারী সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, এই কাঠামোর অধীনে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের তিন সদস্য রাষ্ট্র বিভিন্ন পর্যায়ে পরামর্শ আদান-প্রদান করছে এবং পরবর্তীতে কোনো এক পর্যায়ে এই চুক্তির সম্প্রসারণের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সিদ্ধান্ত নেবে।
সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘বর্তমান পর্যায়ে মক্কা চুক্তির সম্প্রসারণ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’ ভবিষ্যৎ বৈঠক সম্পর্কিত তথ্য ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচী এখনো জানা যায়নি। জোটটি গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কাঠামো, কার্যপদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, সংগঠনটির কাঠামো, প্রক্রিয়া এবং কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো অগ্রগতির বিষয়টি সঠিক সময়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা এবং স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোকে এমন ক্ষমতা দেওয়া যাতে তারা জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে এই জোটের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে চুক্তির অধীনে জোটের কাজকর্ম পরিচালনায় সহায়তার জন্য সৌদি আরবে একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি মহাসচিব হিসেবে এই সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক