মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মিসরের জনপ্রিয় উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড
মাদকদ্রব্য তৈরি ও আন্তর্জাতিক পাচার চক্র চালানোর দায়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন মিসরের একটি আদালত। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কায়রোর একটি আদালত ৩৯ বছর বয়সী উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা ও তাঁর অন্য ১১ সহযোগীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই রায় ঘোষণা করেন। অপরাধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘মিশন ইম্পসিবলের’ সঞ্চালক হিসেবে মিসরে ব্যাপক জনপ্রিয় খলিফা। এছাড়াও তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট তৈরি বিষয়ক একটি প্রোডাকশন কোম্পানির মালিক।
মিসরের রাষ্ট্রীয় দৈনিক ‘আল-আহরাম’ জানায়, আসামিরা একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র গঠন করে বিদেশ থেকে রাসায়নিক কাঁচামাল আমদানি করত। এরপর কৃত্রিম বা সিন্থেটিক মাদক তৈরি করে তা পাচার করত। তাদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার প্রমাণও পেয়েছে আদালত। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চক্রটির কাছ থেকে ৭৫০ কেজি মাদক ও কাঁচামাল জব্দ করার পাশাপাশি কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পায়।
আইন অনুযায়ী মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত করার আগে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ‘গ্র্যান্ড মুফতির’ মতামত নেওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্মীয় মতামত পাওয়ার পরই আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করে। তবে আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া এক তরুণকে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের পৃথক আরেকটি মামলায় খলিফাসহ কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, মিসরের দণ্ডবিধিতে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসবাদ, নির্দিষ্ট কিছু ধর্ষণের ঘটনা এবং মাদক পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মিসরীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ইজিপশিয়ান কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের’ তথ্যমতে, কেবল ২০২৫ সালেই দেশটিতে ৫৪১টি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক