স্বর্ণের দামে বড় পতন, তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্রতর হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে গেছে। জ্বালানির এ ঊর্ধ্বগতির ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির চরম আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক আবারও সুদের হার বাড়ানো হতে পারে— এমন ভীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতে যাওয়া কর্মসংস্থানের নতুন তথ্যের দিকে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক ফিউচার বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২১.৩১ মার্কিন ডলারে, যা গত ৭ আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন। এ নিয়ে টানা চার সেশন ধরে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। বর্তমানে স্বর্ণের দর ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নিচে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ডিসেম্বরের হস্তান্তরের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৮.৫০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের সূচক শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে কেনাবেচা হওয়া স্বর্ণ ও ধাতব পদার্থের দাম আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নেওয়ায় টানা তিন দিন ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড বা বন্ডের মুনাফাও।
বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কোইজম্যান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পর তেলের দাম পুনরুজ্জীবিত হওয়া মূল্যস্ফীতির উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের ঊর্ধ্বমূল্য মুদ্রা নীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং বন্ডের মুনাফাকে ওপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা স্বর্ণের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে সীমিত করে দিচ্ছে।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বাড়লে কোনো নির্দিষ্ট মুনাফা না দেওয়ায় স্বর্ণের আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কমে যায়। ‘সিএমই ফেডওয়াচ টুল‘ অনুযায়ী, ট্রেডাররা চলতি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফেড সভায় নতুন করে সুদের হার বাড়ানোর অন্তত ৭০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা হিসাব করছেন।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর মাইকেল বার সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন, মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। এমনকি গত সপ্তাহে জ্যাকসন হোল সম্মেলনে ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শও নীতিগত হার কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিনিয়োগকারীরা এখন পরবর্তীতে প্রকাশিত হতে যাওয়া এডিপি কর্মসংস্থান রিপোর্ট এবং শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ নন-ফার্ম পে-রোল ডেটার জন্য অপেক্ষা করছেন। কর্মসংস্থানের দুর্বল তথ্য বাজারে স্বর্ণের পতন থামাতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ডেটা বা ফেডের কঠোর অবস্থান স্বর্ণের দরপতনকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক