যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘর্ষে ফের বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে এশিয়ান লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১.১ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলে ৬১ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০.৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার লেনদেনেও উভয় ক্যাটাগরির তেলের দাম ব্যারেলে ৪ ডলারের বেশি বেড়েছিল, যা ছিল গত জুলাই মাসের পর একদিনে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির রেকর্ড।
মার্কিন সামরিক বাহিনী রাতের আঁধারে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের সংঘাতের এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ।
হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন এই আগ্রাসনের ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে, যা বর্তমানে বাণিজ্য জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে প্রচুর মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ১৩টির মধ্যে ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। তবে কোনো আমেরিকান সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পৃথকভাবে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে।
মার্কেট ইনসাইট সংস্থা ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সাচদেবা বলেন, তেলের বাজার এখন আর কেবল যুদ্ধের ঝুঁকির হিসাব করছে না; বরং দীর্ঘায়িত অনিষ্পন্ন যুদ্ধের খরচের হিসাব কষছে। স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত বাজারে তেলের ক্ষেত্রে ‘রিস্ক প্রিমিয়াম‘ বা অতিরিক্ত দামের এই ধারা বজায় থাকবে।
ডাচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকরা গ্রাহকদের দেওয়া এক নোটে জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর আগে গত সোমবার হরমুজ প্রণালি থেকে ছেড়ে আসা দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার পর জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়।
এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মজুত ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে বলে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্যে জানা গেছে। ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট মজুতও কমেছে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। তেলের অভ্যন্তরীণ মজুত কমে যাওয়ার এই চিত্র বিশ্ববাজারে তেলের দর বৃদ্ধিতে বাড়তি প্রভাব ফেলছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক