বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এক লাফে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলারের বেশি কমেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা ও বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) চাপে বিশ্ববাজারে এই দরপতন ঘটে। খবর রয়টার্সের।
আরও পড়ুন : বিশ্রাম নিতে পাতায়া যাচ্ছেন ৫ হাজার মার্কিন সেনা, যৌনকর্মীদের সতর্ক করল থাইল্যান্ড
আরও পড়ুন : মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স ট্রয় স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৪৩০.৭৮ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮৬ টাকা)। যা আগের সেশনের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৯৬ ডলার থেকে প্রায় ৫.৫ শতাংশ কম। এর আগে এক সেশনেই স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বা আউন্সপ্রতি ১৩৪ ডলার পর্যন্ত কমে যায়।
উল্লেখ্য, এক ট্রয় আউন্সে ২.৪৩ ভরি স্বর্ণ থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের দেওয়া কড়া বক্তব্য বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তিনি আভাস দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সুদের হার বাড়ানোর বা উচ্চ রাখার নীতি বহাল রাখতে হবে। এই মন্তব্যের পর আর্থিক বাজারে সেপ্টেম্বরেই আবার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন : পাকিস্তানের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে ভারতকে : আন্তর্জাতিক আদালত
সাধারণত সুদের হার বাড়লে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ও বন্ডের সুদহার শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যার ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়িয়ে তোলার শঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার প্রবণতা আপাতত হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যের বড় ধরনের এই পতনের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিয়মিত স্বর্ণ ক্রয়ের কারণে বছরের শেষভাগে ধাতুটির মূল্য পুনরায় চাঙা হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক