সহায়তা কমায় জাতিসংঘের জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ব্যয় হ্রাসের কারণে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জেনেভা থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সতর্ক করে নতুন এক প্রতিবেদনে নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন জানায়, প্রয়োজন দ্রুত বাড়লেও নারীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও সহায়তা ব্যয় কমিয়েছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। নারী সংগঠনগুলোর জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট হতে বাধ্য হওয়া কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াই করা জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে এক ডলার করে সহায়তা প্রত্যাহার করা।’
ইউএন উইমেন জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন।
সংকট কবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪ শতাংশ সংগঠনের সেবার চাহিদা বেড়েছে।
সংস্থাটি জানায়, প্রতি ১০টি সংগঠনের প্রায় ৯টিই বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। আর জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনগুলো টিকিয়ে রাখতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও কর্মীরা নিজেদের শ্রম ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
ইউএন উইমেন জানায়, নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫ শতাংশ সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ বাড়ছে।
ইউএন উইমেনের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে। ঠিক সেই সময়ই ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ নারী সংগঠন জানিয়েছে, তারা যেসব এলাকায় কাজ করছে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, সহায়তা কমানোর প্রভাব ভয়াবহ।
তারা বলেছে, সহিংসতা থেকে আশ্রয় নিতে আসা একজন নারী হয়তো এমন একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাবেন, যা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একজন গর্ভবতী নারীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে। আবার কোনো মাকে তাঁর সন্তানদের জন্য খাদ্য সহায়তাও নাও দেওয়া হতে পারে।’
ইউএন উইমেন আরও বলেছে, এ সহায়তা কমানোর প্রভাব শুধু মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে দুর্বল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
সংস্থাটি বলেছে, ‘নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। আর অর্ধেকের বেশি সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যেতে দেখছে তারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)