খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে হচ্ছে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন, বড় প্রত্যাশা বাংলাদেশের
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন। এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য কিছুটা গর্বের বিষয়। কারণ বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মিলনমেলার এ অধিবেশনে সভাপত্বিত করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো এ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি।
কূটনৈতিক মহল বলছে, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অনেক সম্মানের, তাই প্রত্যাশাও থাকবে বেশি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এবারের জাতিসংঘে বাংলাদেশের মূল প্রত্যাশা হলো বিশ্বশান্তি রক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা এবং বৈশ্বিক ফোরামে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সোমবার জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের (ডিওএস) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল (ইউএসজি) অতুল খারে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা প্রতিপূরণ দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জাতিসংঘে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে তা হলো—
শান্তিরক্ষা মিশন ও পুলিশ মোতায়েন : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী শান্তিরক্ষীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের পদে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
হাইতিতে বিশেষায়িত ইউনিট : হাইতির নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে সোয়াত, সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে সক্ষম তিনটি বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েনের বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা প্রত্যাশা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ও সহায়তা জোরদারের দাবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ : স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অর্থনৈতিক ধাক্কা না আসে, সেজন্য বৈশ্বিক বাণিজ্য সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো আলোচনা চলছে।
এর আগে, গত ২ জুন বাংলাদেশের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৯৯ ভোট পেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট।
৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমান আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এক বছরের মেয়াদে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দেবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রায় ৪০ বছর পর আবারও বাংলাদেশ থেকে কেউ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটির একটি করে ভোট রয়েছে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী হন সভাপতি।

মোঃ জাকের হোসেন (Md Zaker Hossain)