সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত ১১
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুও রয়েছে। এছাড়া কিয়েভ অঞ্চলের অন্য এলাকায় আরও তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। হামলায় অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া কিয়েভে আরও একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর বিবিসির।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে একাধিক আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। এছাড়া গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ-ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। অন্তত তিনটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে এবং কয়েকটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে নদী থেকে পানি এনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগের দিন এই হামলা চালানো হলো। সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায় ইউক্রেন অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে মস্কোর দাবি ছিল, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সর্বশেষ হামলার পর জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে প্রতিটি বিলম্ব মানে আরও মানুষের প্রাণহানি। এটি রাশিয়াকে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করতে উৎসাহিত করছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরেও রাতভর হামলার পর সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনতেই এই কৌশল নিয়েছে কিয়েভ। তবে এর জবাবে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভে আরও তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক