কড়া নিরাপত্তায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার প্রস্তুতি
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ঘিরে রাজধানী তেহরানে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি চেকপোস্ট, সেনাবাহিনীর যানবাহন, ব্যারিকেড, শোকবার্তা সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন শুরু হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যে লাখো, এমনকি কয়েক কোটি মানুষ অংশ নেবেন। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। খবর আল জাজিরার।
খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুতেই নিহত হন। ওই হামলায় তার মেয়ে, নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
খামেনির স্মরণে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সরকার। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের মুখে জাতীয় ঐক্য, জনগণের শোক, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
শেষকৃত্য উপলক্ষে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত তেহরানের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে যান চলাচল সীমিত থাকবে এবং নিরাপত্তা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে আজ শুক্রবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) পুরো দিনের জন্য রাজধানীর আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শেষকৃত্যের পরবর্তী ধাপ এবং দাফনের আনুষ্ঠানিকতা এই দুই শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দেশজুড়ে শোকানুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা, পরিবহন ও জননিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক