বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েন
বলিভিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট গতকাল শনিবার (২১ জুন) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ অপসারণে সেনাবাহিনী ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অবরোধের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন ও কোকা চাষিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। এই গোষ্ঠীগুলো শহরগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করছে এবং সড়কে পাথর, গাছের গুঁড়ি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে।
এসব অবরোধের কারণে দেশের বড় বড় শহরে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার প্রথম অসমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সংকট নিরসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে, শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংকট মোকাবিলায় তিনি ৯০ দিনের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
জরুরি অবস্থার আওতায় বিক্ষোভ-সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পরই এল আলতো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের বহর দেখা যায়। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ অপসারণ শুরু করা হয়। সেখানে অনেক বাসিন্দাকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। এ সময় এক ব্যক্তি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে রুটিভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দেন।
৩৯ বছর বয়সী দোকানদার কার্লা বুত্রোন এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। গত প্রায় ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এল আলতোতে কাজকর্ম, স্বাভাবিক চলাচল সবই ব্যাহত ছিল।’

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)