বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও থাকছে না মমতার তৃণমূল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার চরম সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাও এখন তার দলের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল ইতোমধ্যেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের একটি দল নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগ করেছে এবং রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও পেয়ে গেছে। ফলে দলীয় বিদ্রোহের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর হাত থেকে বিরোধী দলীয় নেতার পদটি ইতোমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে এই বিদ্রোহের আগুন দানা বাঁধছিল। দুর্নীতি এবং আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে দলের অনেক নেতাই প্রকাশ্য সমালোচনা শুরু করেন। গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও অনেক বিক্ষুব্ধ নেতা অংশ নেন।
দলের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল মনোযোগ এখন যেকোনো মূল্যে দলের নাম ও নির্বাচনি প্রতীক (জোড়া ফুল) রক্ষা করার দিকে। তবে ভারতের রাজনীতিতে পূর্ববর্তী ‘মহারাষ্ট্র মডেলের’ (যেখানে শিবসেনা বা এনসিপির নাম ও প্রতীক বিদ্রোহী গোষ্ঠী পেয়েছিল) নজির টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার জন্য এই প্রতীক ও নাম টিকিয়ে রাখার লড়াই অত্যন্ত কঠিন হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক