পাইলটের আংটি বদল নিয়ে ভারতজুড়ে শোরগোল
ভারতের এক তরুণ সেনা ক্যাপ্টেনের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এরপরই দেশটির সামরিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। মহারাষ্ট্রের নাসিকের ‘কমব্যাট আর্মি অ্যাভিয়েশন ট্রেইনিং স্কুলে’ সমাপনী কুচকাওয়াজ (পাসিং-আউট প্যারেড) শেষ হওয়ার পরপরই এই কাণ্ড ঘটান নবনিযুক্ত আর্মি অ্যাভিয়েশন পাইলট ক্যাপ্টেন ভরত ভরদ্বাজ। দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। সেই স্মরণীয় মুহূর্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ ভিউ কুড়ায়। খবর এনডিটিভির।
নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত রোমান্টিক ও স্মরণীয় বলে প্রশংসা করলেও, অন্য অংশটি তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। একজন দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা সামরিক পোশাকে (ইউনিফর্ম) ও সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে এভাবে বিয়ের প্রস্তাবের দৃশ্য ধারণ করতে পারেন কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্যাপ্টেন ভরদ্বাজ সামরিক জীবনের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক বা অর্জন উদযাপনের পরপরই রানওয়েতে হাঁটু গেঁড়ে বসে তার সঙ্গিনীকে আংটি উপহার দিচ্ছেন। এই অভিনব প্রস্তাবের সমর্থকরা এটিকে ভালোবাসা ও জীবনের বড় সাফল্যের এক সুন্দর উদযাপন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, এই ধরনের সংবেদনশীল স্থানে বিয়ের প্রস্তাবের আয়োজন সামরিক গাম্ভীর্য ও শিষ্টাচারকে ক্ষুণ্ণ করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধেয় (কনটেন্ট) হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পত্তি বা সরঞ্জাম ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে তরুণ এই ক্যাপ্টেনের পক্ষে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। ভারতের সাবেক নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজেএস ধিলোন প্রকাশ্যে এই তরুণ অফিসারের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশের জন্য একজন তরুণ কর্মকর্তাকে এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি লেখেন, আপনারা চান এই তরুণ কর্মকর্তা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করুক, কিন্তু সে তার বাগদত্তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুক— সেটি আপনারা চান না। তরুণরা যদি এটি না করে, তবে কে করবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বা পেছনে দৃশ্যমান সামরিক বিমান ও সরঞ্জামগুলোর কারণে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। তবে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক নেতৃবৃন্দ এই আশঙ্কাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, সেনাবাহিনীর এই বিমান ও সরঞ্জামগুলো প্রায়শই বিভিন্ন সাধারণ প্রদর্শনী ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। একাধিক প্রবীণ সেনা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই ভিডিওর মাধ্যমে কোনো ধরনের গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক