ইরান যুদ্ধের আগে ইরাকে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। খবর আল-জাজিরার।
রোববার (১৭ মে) একজন ইরাকি কর্মকর্তা এবং একজন আইনপ্রণেতার বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরাকের কর্মকর্তারা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েল পরিচালিত দুটি গোপন সামরিক ঘাঁটি শনাক্ত করেছে। একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই অস্থায়ী ঘাঁটিগুলো তৈরির প্রস্তুতি নেয়।
গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয় এবং এটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত ছিল। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এই ঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী থাকত। এটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে বিমান অভিযানের জন্য রসদ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ ছাড়া ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারে এ ঘাঁটি ব্যবহার করা যেত।
পত্রিকাটি আরও জানায়, মার্চের শুরুতে সামরিক ঘাঁটিটি প্রায় খুঁজে পাওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছিল ইরাকের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনী এই ঘাঁটি থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্যাটেলাইট চিত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরাকের সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন স্থানটি শনাক্ত করা গেছে।
ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর কথিত কার্যকলাপ নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা পরস্পরবিরোধী বর্ণনার সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরাকি বার্তা সংস্থার তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ইরাকের যৌথ অভিযানের উপ-কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কায়েস আল-মুহাম্মাদাওয়ি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ বাগদাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কারবালার নিকটবর্তী নাজাফ মরুভূমিতে ‘ব্যক্তি বা (যান) চলাচলের’ খবর পেয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইসরায়েলের সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল তোমের বারের মার্চ মাসের মন্তব্যও উল্লেখ করেছে। ওই সময় মেজর জেনারেল তোমের বার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ‘অসাধারণ’ অভিযান চালিয়েছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বলেননি।
ইরাকের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ওই এলাকায় কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অনুমোদন দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। কথিত ইসরায়েলি ঘাঁটির বিবরণ প্রকাশিত হওয়ার আগে গত সপ্তাহে আল-মুহাম্মাদাওয়ি বলেন, ওই এলাকায় কোনো বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়ে কোনো চুক্তি বা সম্মতি নেই।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন সামরিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে বাগদাদ মার্চের শেষের দিকে গোপনে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছিল। দেশটি এটিকে ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
পত্রিকাটি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃটি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনীর ওই অভিযানে ওয়াশিংটন জড়িত ছিল না। রোববার ইরাকের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের খবরটি আবারও অস্বীকার করেন।
ইরাকের কারবালা অভিযানের কমান্ডার আল-জাজিরাকে বলেন, মার্চ মাসে নাজাফ মরুভূমিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি দলকে শনাক্ত করা হয়েছিল, যদিও তিনি বলেন, দলটি ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাক যখন ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, ঠিক তখনই এই প্রতিবেদনগুলো সামনে এলো।
ওয়াশিংটন বারবার বাগদাদকে ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমাতে আহ্বান জানিয়েছে। মার্চ মাসে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও রসদ স্থাপনায় হামলার পর মার্কিন বাহিনী স্থানীয় ‘পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের’ বিরুদ্ধে হামলা চালায়।
এসব অভিযোগ নিয়ে ইরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেছেন, তেহরান ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবে। তিনি এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছেন।
বাঘাই বলেন, এই অঞ্চলে ইসরায়েলের আচরণ এটাই প্রমাণ করে, তারা কোনো সীমা বা রেডলাইন মানে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক