ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘লাশ’ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষার জন্য সাধারণ মানুষের দান করা মৃতদেহগুলো দাতা বা তাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, এই মৃতদেহগুলোর একটি অংশ লস অ্যাঞ্জেলেসে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সার্জিক্যাল টিমকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
সংবাদমাধ্যম এজে+ এর হয়ে দেনা তাকরুরি পরিচালিত এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সাত বছরে মার্কিন নৌবাহিনী এসব মৃতদেহ সংগ্রহের জন্য ইউএসসিকে ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২টি মৃতদেহ সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে।
সাধারণত মানুষ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি বা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে মরণোত্তর দেহ দান করেন। কিন্তু এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দান করা দেহগুলো ‘ফ্রেশ টিস্যু’ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মৃতদেহের রক্ত চলাচলের কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির সিমুলেশন করা হচ্ছে। দাতা বা তাদের স্বজনদের অগোচরে এমন ‘বাণিজ্যিক ও সামরিক’ ব্যবহারকে গভীর নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, কোনো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত নয় এমন কোনো দেশের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে লাশ বিক্রি করা, যারা বর্তমানে গাজায় মানবিক সংকটের সাথে যুক্ত।
অন্যদিকে ইউসিএসডি জানিয়েছে, তারা তাদের দেহদান কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা ও গবেষণার জন্য লাশ সরবরাহ করে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ব্যবহারের রিপোর্ট পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করার কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের নেই।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের জরুরি চিকিৎসা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিচালিত হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক